বিশ্বের অদ্ভুত ৫টি অমীমাংসিত রহস্য !
১. পৃথিবীর নামকরণ:
পৃথিবী হলো সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ যার নাম কোনো রোমান বা গ্রীক দেবতার নাম থেকে আসেনি। পৃথিবীকে ইংরেজিতে আর্থ বলে। আর্থ শব্দটি এসেছে পুরোনো ইংরেজি ও জার্মান শব্দ গ্রাউন্ড থেকে। কিন্তু কেউ জানে না যে পৃথিবী কখন তার নাম পেয়েছে অথবা কে এ নামকরণ করেছে।পৃথিবীর নাম পুরাণ থেকে না আসার একটি প্রধান তত্ত্ব হলো, প্রাচীন লোকদের ধারণায় আসেনি যে অন্যান্য গ্রহের মতো পৃথিবীও একটি গ্রহ। তারা মনে করত যে অন্যান্য গ্রহ ছিল স্বর্গীয় বস্তু যারা পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে এবং সে অনুসারে তাদের নামকরণ হয়েছে। অবশ্যই এ তত্ত্বের কোনো শক্তিশালী ভিত্তি নেই।
২. নেতাজী'র মৃত্যু রহস্য
সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা। তাঁর মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা। তিনি নেতাজি নামে সুপরিচিত ছিলেন। অনেকের মতে তিনি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান ১৯৪৫ সালে। তবে অন্য আরো সূত্র জানায় তিনি বেঁচে ছিলেন। ওই সময় তিনি জীবিত ছিলেন আরো অনেকদিন। এই বিষয়ে বেশ কিছু প্রমাণ ১৯৯১ সালে পাওয়া যায়, তবে সঠিক কোন সমাধান হয়নি। আর তাই ইতিহাসে তাঁর মৃত্যুটি রহস্যে আবৃত।
৩. ভয়নিখ ম্যানুস্ক্রীপ্ট
ভয়নিখ ম্যানুস্ক্রীপ্ট লিখা হয়েছে ভ্যালুমের (পশুর চামড়া) উপর ১৫০০ শতাব্দীতে। অজানা ভাষায় লিখিত বইটির মাত্র ২৪০ টি পৃষ্ঠা পাওয়া গিয়েছে,আরো অনেক পৃষ্ঠাই হারিয়ে গিয়েছে। বইটিতে রয়েছে অসংখ্য ডায়াগ্রাম,ইলাস্ট্রেশন এবং কোড। এবং বইটিতে লেখাগুলো বাম দিক থেকে ডান দিকে লেখা হয়েছে।
ভয়নিখ ম্যানুস্ক্রীপ্ট পড়েছেন অসংখ্য পেশাদার ক্রীপ্টোগ্রাফার এবং আমেরিকা ও ব্রিটেনের অসংখ্য জনপ্রিয় কোডব্রেকাররা। যাদের কেউই অজানা ভাষায় মুদ্রিত এই বইয়ের লেখা, ডায়াগ্রাম, কোড, ইলাসস্ট্রেশনের সমাধান করতে পারেননি এবং এখন পর্যন্ত বইটি জনপ্রিয় একটি রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে ক্রীপ্টোগ্রাফারদের নিকট।
৪. ফেড্রিক ভ্যালেন্টিস
সেসনা ১৮২ মডেলের একটি বিমান নিয়ে ১৯৭৮ সালে ২০ বছর বয়সী এই পাইলট নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি সে সময় তার সামনে চারটি উজ্জ্বল সবুজ আলো দেখতে পাচ্ছিলেন। এটি ছিলো রেডিওতে দেওয়া তার সর্বশেষ বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন আলোটি তার চেয়ে এক হাজার ফুট উপরে ছিলো। তিনি বলেছিলেন আলোটি তার দিকে এগিয়ে আসছে। তবে সেটা কোন বিমান ছিলো না, এই বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছিলেন। এরপর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। এটিই ছিলো তার শেষ কথা। বিমান নিয়ে তার হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইতিহাসে এক অন্যতম রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে।
৫. এরডস্টাল
এরডস্টাল হলো ইউরোপের সরু আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল, যার সন্ধান পেয়ে সকলেই বিস্মিত। সাতশো’রও বেশি টানেলের সন্ধান পাওয়া গেছে, শুধুমাত্র জার্মানির বাভারিয়াতেই। টানেলগুলো এত সংকীর্ণ, যাদের উচ্চতা শুনলে মনে জাগবে বিস্ময়। টানেলগুলো উচ্চতায় এক থেকে দেড় মিটার উঁচু এবং চওড়া এক মিটারের মতো। এই টানেলগুলো কে বা কারা কী উদ্যেশ্যে তৈরি করেছিলো তা জানা যায় নি।
কোন পন্ডিতেরা বলে থাকেন, এই টানেলগুলো কোন ধর্মীয় কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিলো, আবার কারো কারো মতে টানেলগুলো পালানোর পর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই টানেলগুলো তৈরির পেছনের আসল রহস্য উদ্ধার হয় নি। এছাড়া টানেলগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে রহস্যজনকভাবে তৈরি করা হয়েছিলো। টানেলগুলোর ভিতরে ঢোকার মুখগুলোও ছিলো, কোনটা শহর থেকে দূরে, কোনটা বা গোরস্থানের ভেতরে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই টানেলগুলোর ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ পুরাতাত্ত্বিক কিছু পাওয়া যায় নি। এই টানেলগুলো পৃথিবীতে অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য।
সূত্র (ছবি ও তথ্য):
১০ মিনিট স্কুল ব্লগ ।
রাইজিংবিডি
উইকিপিডিয়া
ইতিবৃত্ত
No comments:
Post a Comment